ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

আখাউড়ার কলেজছাত্র হৃদয় হত্যার রহস্য উদঘাটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুই খুনি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুলব্যাগ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের দাড়িয়াকান্দি এলাকার মো. কাজল মিয়া (২০) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম (২১)। তারা উভয়েই মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

তিনি জানান, নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৮) কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং ওয়াইফাই অপারেটর হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

গত ৭ জুলাই সকালে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা-বাগান থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় বেল্ট পেঁচানো ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার আলামত পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হৃদয়কে কৌশলে চা-বাগানে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ গাছের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। হত্যার পর হৃদয়ের মোবাইল ফোন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকায় কোনো ক্লু রেখে যায়নি। এরপরও পুলিশ ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।

নিহত হৃদয় আহমেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। তার পিতার নাম লিটন মিয়া ও মাতার নাম হাসিনা বেগম। পরিবার নিয়ে শহরতলীর শাহীবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আখাউড়ার কলেজছাত্র হৃদয় হত্যার রহস্য উদঘাটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুই খুনি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুলব্যাগ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের দাড়িয়াকান্দি এলাকার মো. কাজল মিয়া (২০) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম (২১)। তারা উভয়েই মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

তিনি জানান, নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৮) কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং ওয়াইফাই অপারেটর হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

গত ৭ জুলাই সকালে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা-বাগান থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় বেল্ট পেঁচানো ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার আলামত পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হৃদয়কে কৌশলে চা-বাগানে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ গাছের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। হত্যার পর হৃদয়ের মোবাইল ফোন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকায় কোনো ক্লু রেখে যায়নি। এরপরও পুলিশ ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।

নিহত হৃদয় আহমেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। তার পিতার নাম লিটন মিয়া ও মাতার নাম হাসিনা বেগম। পরিবার নিয়ে শহরতলীর শাহীবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।