আখাউড়ার কলেজছাত্র হৃদয় হত্যার রহস্য উদঘাটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুই খুনি গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / ২৭৫ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুলব্যাগ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের দাড়িয়াকান্দি এলাকার মো. কাজল মিয়া (২০) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম (২১)। তারা উভয়েই মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৮) কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং ওয়াইফাই অপারেটর হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
গত ৭ জুলাই সকালে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা-বাগান থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় বেল্ট পেঁচানো ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার আলামত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হৃদয়কে কৌশলে চা-বাগানে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ গাছের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। হত্যার পর হৃদয়ের মোবাইল ফোন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকায় কোনো ক্লু রেখে যায়নি। এরপরও পুলিশ ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।
নিহত হৃদয় আহমেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। তার পিতার নাম লিটন মিয়া ও মাতার নাম হাসিনা বেগম। পরিবার নিয়ে শহরতলীর শাহীবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন




















