ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এমপি শ্যামলকে সিরাজুল ইসলাম সিরাজের অভিনন্দন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মেড্ডায় অগ্নিকাণ্ড: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস জেলা পরিষদ প্রশাসকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব হলেন আশিকুল ইসলাম সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর-খাল-জলাশয় রক্ষায় ঢেউ’র ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌর সুপার মার্কেটের দোকান বরাদ্দের লটারি অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি পরিদর্শন, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী যাচাই সরাইলে টানা তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শান্তির আভাস, জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজের মধ্যস্থতায় সমঝোতা আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের জমি রক্ষার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ৬৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাইশা আক্তার (১৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক তার চেম্বার বন্ধ করে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত মাইশা আক্তার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সেন্দা শিলাউর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিন মাস আগে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. পি. বি. রায় (সুপ্রিয়) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক। তিনি জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাইশা দীর্ঘদিন ধরে ওই চিকিৎসকের নিয়মিত রোগী ছিলেন। রোববার দুপুরে সর্দি, কাশি ও হালকা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে স্বজনরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে ট্রাইজোন ইনজেকশন ও নেবুলাইজার দেওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের সহযোগী শুয়াংশু ১৪০ টাকা নিয়ে নিজেই রোগীকে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা শরিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ের শুধু ঠান্ডা-কাশি ছিল। তাকে ডা. পি. বি. রায়ের কাছে নিয়ে যাই। তার কোনো বড় ধরনের অসুখ ছিল না। চিকিৎসকের সহযোগী ১৪০ টাকা নিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্বামী আশরাফুল ইসলাম বলেন, কাশি-সর্দির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। অর্ধেক ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং ঠোঁট-মুখ কালো হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক ডা. পি. বি. রায় (সুপ্রিয়) বলেন, রোগী অ্যাজমার সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি ব্যবস্থাপত্রে ট্রাইজোন ইনজেকশন লিখে দিয়েছিলাম। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সহযোগীর মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পাউন্ডার (সহযোগী) ইনজেকশন দিতে পারে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অনেক সময় চিকিৎসকের সহযোগীরা ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। তারা দক্ষ হলে বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে ইনজেকশন দিতে পারেন। তবে নার্সের মাধ্যমেই ইনজেকশন দেওয়া উত্তম। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাইশা আক্তার (১৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক তার চেম্বার বন্ধ করে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত মাইশা আক্তার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সেন্দা শিলাউর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিন মাস আগে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. পি. বি. রায় (সুপ্রিয়) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক। তিনি জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাইশা দীর্ঘদিন ধরে ওই চিকিৎসকের নিয়মিত রোগী ছিলেন। রোববার দুপুরে সর্দি, কাশি ও হালকা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে স্বজনরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে ট্রাইজোন ইনজেকশন ও নেবুলাইজার দেওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের সহযোগী শুয়াংশু ১৪০ টাকা নিয়ে নিজেই রোগীকে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা শরিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ের শুধু ঠান্ডা-কাশি ছিল। তাকে ডা. পি. বি. রায়ের কাছে নিয়ে যাই। তার কোনো বড় ধরনের অসুখ ছিল না। চিকিৎসকের সহযোগী ১৪০ টাকা নিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্বামী আশরাফুল ইসলাম বলেন, কাশি-সর্দির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। অর্ধেক ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং ঠোঁট-মুখ কালো হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক ডা. পি. বি. রায় (সুপ্রিয়) বলেন, রোগী অ্যাজমার সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি ব্যবস্থাপত্রে ট্রাইজোন ইনজেকশন লিখে দিয়েছিলাম। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সহযোগীর মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পাউন্ডার (সহযোগী) ইনজেকশন দিতে পারে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অনেক সময় চিকিৎসকের সহযোগীরা ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। তারা দক্ষ হলে বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে ইনজেকশন দিতে পারেন। তবে নার্সের মাধ্যমেই ইনজেকশন দেওয়া উত্তম। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।