ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি ও গলা কেটে হত্যা: লাশ নিয়ে থানায় স্বজনদের বিক্ষোভ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার বিচার ও মামলা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর লাশ নিয়ে সদর থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্বজনরা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবস্থানের পর এফআইআর গ্রহণ হওয়ায় তারা থানা ছাড়েন।

নিহত সাদ্দাম শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির বাসিন্দা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর ছেলে। তাঁর স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক মেয়ে এবং দুই বছর বয়সী আরেক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান—নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা নিয়ে কান্দিপাড়ার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ও সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্দিপাড়ার মাদ্রাসা রোডে পপুলার প্রেসের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

এই ঘটনায় টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে সোয়েব (২৭) এবং সানজু (২২) গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে দেলোয়ার হোসেন, তাঁর সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া বাড়ি থেকে ডেকে সাদ্দামকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি খবর পান সাদ্দাম গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কান্দিপাড়ার সংকর শাহবাড়ির পাশের খালের নতুন সেতুর ওপর ছুটে গিয়ে দেখেন দুই ব্যক্তি সাদ্দামকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “আমার ছেলের বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাই। ওড়না সরাতেই দেখি—গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেলোয়ার হোসেন, বাবুল ও পলাশ আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই এ কাজ করেছে তারা।”

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সাদ্দামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা দেলোয়ার হোসেনসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং লাশ নিয়ে সদর থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। থানার ভেতর ও বাইরে তখন বিপুল সংখ্যক স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “স্বজনরা মামলা গ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। এজাহার জমা দেওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। এরপর তারা ফিরে যান।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি ও গলা কেটে হত্যা: লাশ নিয়ে থানায় স্বজনদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার বিচার ও মামলা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর লাশ নিয়ে সদর থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্বজনরা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবস্থানের পর এফআইআর গ্রহণ হওয়ায় তারা থানা ছাড়েন।

নিহত সাদ্দাম শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির বাসিন্দা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর ছেলে। তাঁর স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক মেয়ে এবং দুই বছর বয়সী আরেক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান—নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা নিয়ে কান্দিপাড়ার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ও সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্দিপাড়ার মাদ্রাসা রোডে পপুলার প্রেসের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

এই ঘটনায় টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে সোয়েব (২৭) এবং সানজু (২২) গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে দেলোয়ার হোসেন, তাঁর সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া বাড়ি থেকে ডেকে সাদ্দামকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি খবর পান সাদ্দাম গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কান্দিপাড়ার সংকর শাহবাড়ির পাশের খালের নতুন সেতুর ওপর ছুটে গিয়ে দেখেন দুই ব্যক্তি সাদ্দামকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “আমার ছেলের বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাই। ওড়না সরাতেই দেখি—গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেলোয়ার হোসেন, বাবুল ও পলাশ আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই এ কাজ করেছে তারা।”

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সাদ্দামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা দেলোয়ার হোসেনসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং লাশ নিয়ে সদর থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। থানার ভেতর ও বাইরে তখন বিপুল সংখ্যক স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “স্বজনরা মামলা গ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। এজাহার জমা দেওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। এরপর তারা ফিরে যান।