ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঁশ বাজার লীজ বাতিলের সিদ্ধান্ত, কাটাতারের বেড়া দেবে প্রশাসন

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজার সংলগ্ন পুরাতন বাঁশপট্টির বিতর্কিত বন্দোবস্ত (লীজ) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই সরকারি জায়গাটি কাটাতারের বেড়া দিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

সভায় জানানো হয়, তিতাস নদীর পাড় ও বাঁধসংলগ্ন ওই স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড স্থাপন উপযুক্ত হবে কিনা, তা বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে জায়গাটির বন্দোবস্ত বাতিল ও সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড করার দাবিতে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রশাসন ৩৩টি একসনা বন্দোবস্ত মামলার ভিত্তিতে আনন্দবাজারের পুরাতন বাঁশপট্টির প্রায় ০.২০৯৪ একর সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত প্রদান করে। তবে বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে গেলে হামলার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের ১৫ জন কর্মচারী আহত হন।

এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় আসামি ও অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২৩ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়ী নেতা জহিরুল হক খোকনকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তি ও বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে শহরের চারটি বাজার ও একটি মার্কেটের দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবারের সভায় জেলার রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন পড়ে শোনানো হয়, যেখানে নদীর বাঁধসংলগ্ন স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড করা অনুপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা সভায় বলেন, “বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই লীজ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেহেতু জায়গাটি তিতাস নদীর পাড়ে ও বাঁধসংলগ্ন, তাই সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড করা যুক্তিযুক্ত হবে কিনা তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে। আপাতত জায়গাটি যাতে বেদখল না হয়, সে জন্য কাটাতারের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শংকর কুমার বিশ্বাস, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ, এনসিপি নেতা আজিজুর রহমান লিটন, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম, গণঅধিকার পরিষদের নেতা আশরাফুল ইসলাম তপু, ব্যবসায়ী নেতা আবুল কালাম, আশীষ পাল, সফিউল্লাহ, জালাল উদ্দিন, ট্রাক মালিক গ্রুপের নেতা মো. মেরাজ, প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা ও পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খান সাদাত প্রমুখ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঁশ বাজার লীজ বাতিলের সিদ্ধান্ত, কাটাতারের বেড়া দেবে প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজার সংলগ্ন পুরাতন বাঁশপট্টির বিতর্কিত বন্দোবস্ত (লীজ) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই সরকারি জায়গাটি কাটাতারের বেড়া দিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

সভায় জানানো হয়, তিতাস নদীর পাড় ও বাঁধসংলগ্ন ওই স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড স্থাপন উপযুক্ত হবে কিনা, তা বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে জায়গাটির বন্দোবস্ত বাতিল ও সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড করার দাবিতে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রশাসন ৩৩টি একসনা বন্দোবস্ত মামলার ভিত্তিতে আনন্দবাজারের পুরাতন বাঁশপট্টির প্রায় ০.২০৯৪ একর সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত প্রদান করে। তবে বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে গেলে হামলার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের ১৫ জন কর্মচারী আহত হন।

এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় আসামি ও অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২৩ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়ী নেতা জহিরুল হক খোকনকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তি ও বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে শহরের চারটি বাজার ও একটি মার্কেটের দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবারের সভায় জেলার রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন পড়ে শোনানো হয়, যেখানে নদীর বাঁধসংলগ্ন স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড করা অনুপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা সভায় বলেন, “বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই লীজ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেহেতু জায়গাটি তিতাস নদীর পাড়ে ও বাঁধসংলগ্ন, তাই সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড করা যুক্তিযুক্ত হবে কিনা তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে। আপাতত জায়গাটি যাতে বেদখল না হয়, সে জন্য কাটাতারের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শংকর কুমার বিশ্বাস, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ, এনসিপি নেতা আজিজুর রহমান লিটন, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম, গণঅধিকার পরিষদের নেতা আশরাফুল ইসলাম তপু, ব্যবসায়ী নেতা আবুল কালাম, আশীষ পাল, সফিউল্লাহ, জালাল উদ্দিন, ট্রাক মালিক গ্রুপের নেতা মো. মেরাজ, প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা ও পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খান সাদাত প্রমুখ।