ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২২৪ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আজ ২০ আগষ্ট গ্রাম আদালত কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ মেরাজুল ইসলাম উক্ত সমন্বয় সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। এতে দেখা যায় যে, জানুয়ারী ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সাত মাসে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মোট ৯২২ টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৭৮টি মামলা জেলা আদালত থেকে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে স্থানান্তর হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৮৭২টি মামলা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫৩,৮৯,০০০/- আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে প্রদান করা হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব এম. এম. রকীব উর রাজা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মোঃ আমির আলী, জেলা তথ্য অফিসার জনাব দীপক চন্দ্র দাস, সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ বদিউজ্জামান ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি নিয়াজ মোঃ খান বিটু, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী পরিচালক জনাব এস. এম. শাহীন, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী জনাব বিভাষ কিশোর দাশ, দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সকলেই গ্রাম আদালতের গুরুত্ব এবং এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ প্রদান করেন।
আলোচনায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি, কম খরচে সেবা প্রাপ্তি এবং সহজপ্রাপ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেন এবং আরও কার্যকরভাবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
এছাড়াও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কৌশল, প্রচার-প্রচারণার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অংশীজনদের মাঝে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন এবং সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি’র যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন




























