ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

বাঞ্ছারামপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৪টি ড্রেজার জব্দ, ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৯৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৪টি শক্তিশালী ড্রেজার জব্দ ও ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কানাইনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অবৈধ ৪ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- নর‌সিংদীর মো. শা‌হিন মিয়া (৩২), মাধব‌দীর মো. আব্দুল্লাহ (২৪), মে‌হেন্দীগঞ্জের মো. সোহাগ (২০), কানাইনগ‌রের মো. নিরব মিয়া (১৯)। বয়স কম হওয়ায় ২ তরুণকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কানাইনগরের বাজারের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় অভিযান পরিচালনা করে ৪টি বড় আকৃতির উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি মেশিন জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌস আরা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম ।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো বালু দস্যুরা। বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের ফসলি জমি-বাড়ি গুলো দিন দিন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা জমির মালিকরা তাদের কিছু বললে উল্টো আমাদের বিভিন্ন মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুদস্যুরা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঞ্ছারামপুর এসে বহুদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে দৈনিক ১০ হতে ১৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে দিতো। মাসে তারা প্রায় কোটি টাকা অবৈধ আয় করতো। তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করে না স্থানীয়দের কেউই। এমনকি পুলিশ, সাংবাদিক কেউ তাদের কাছে যেতে পারে না। তাদের অনেকই সশস্ত্র অবস্থায় থাকে বলে জানা গেছে। এই ভয়ংকর বালু দস্যুদের ভয়ে বিগত দুই বছর ধরে বাঞ্ছারামপুর সীমানায় কেউ জলমহাল বা বালু উত্তোলনের ইজারা দেয়া যাচ্ছিলো না। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, তাদের যে টাকা জরিমানা বা মোবাইল কোর্টের সাজা দেয়া হোক না কেনো, তারা সেটি অবলীলায় দিয়ে দেয়। সাজা হলে জামিনে এসে ফের সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌস আরা বলেন, অভিযান পরচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ২টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা ও নৌ পুলিশ উপস্থিত ছিল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, আজ মোবাইল কোর্টে বালুদস্যুতার কারণে ৪ টি ড্রেজার জব্দ ও ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা দেয়া হয়েছে।

জব্দকৃত ড্রেজারগুলোর প্রতিটির বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা করে ৪ টির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার উপরে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৪টি ড্রেজার জব্দ, ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৪টি শক্তিশালী ড্রেজার জব্দ ও ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কানাইনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অবৈধ ৪ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- নর‌সিংদীর মো. শা‌হিন মিয়া (৩২), মাধব‌দীর মো. আব্দুল্লাহ (২৪), মে‌হেন্দীগঞ্জের মো. সোহাগ (২০), কানাইনগ‌রের মো. নিরব মিয়া (১৯)। বয়স কম হওয়ায় ২ তরুণকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কানাইনগরের বাজারের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় অভিযান পরিচালনা করে ৪টি বড় আকৃতির উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি মেশিন জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌস আরা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম ।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো বালু দস্যুরা। বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের ফসলি জমি-বাড়ি গুলো দিন দিন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা জমির মালিকরা তাদের কিছু বললে উল্টো আমাদের বিভিন্ন মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুদস্যুরা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঞ্ছারামপুর এসে বহুদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে দৈনিক ১০ হতে ১৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে দিতো। মাসে তারা প্রায় কোটি টাকা অবৈধ আয় করতো। তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করে না স্থানীয়দের কেউই। এমনকি পুলিশ, সাংবাদিক কেউ তাদের কাছে যেতে পারে না। তাদের অনেকই সশস্ত্র অবস্থায় থাকে বলে জানা গেছে। এই ভয়ংকর বালু দস্যুদের ভয়ে বিগত দুই বছর ধরে বাঞ্ছারামপুর সীমানায় কেউ জলমহাল বা বালু উত্তোলনের ইজারা দেয়া যাচ্ছিলো না। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, তাদের যে টাকা জরিমানা বা মোবাইল কোর্টের সাজা দেয়া হোক না কেনো, তারা সেটি অবলীলায় দিয়ে দেয়। সাজা হলে জামিনে এসে ফের সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌস আরা বলেন, অভিযান পরচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ২টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা ও নৌ পুলিশ উপস্থিত ছিল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, আজ মোবাইল কোর্টে বালুদস্যুতার কারণে ৪ টি ড্রেজার জব্দ ও ৪ জনকে ১৫ দিনের সাজা দেয়া হয়েছে।

জব্দকৃত ড্রেজারগুলোর প্রতিটির বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা করে ৪ টির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার উপরে রয়েছে বলে জানা গেছে।