ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা জলাবদ্ধতায় ‘বধ্যভূমি’, গর্তে ভরা সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টিতে হাঁটুপানি রাস্তায়, ফেসবুকে ভাইরাল ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য; এক্সকেভেটর নিয়ে নেমেছে পৌরসভা

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিনের অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ এবং ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে পুনিয়াউট, সরকারপাড়া, কাউতলী, শিমরাইলকান্দি, ফিসারী রোড, মেড্ডা, কুরুলিয়া, কলেজপাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক ও টেংকেরপাড়সহ বহু এলাকায় হাঁটুর ওপর পানি জমে আছে। কেউ কাপড় গুটিয়ে, কেউ স্কুলব্যাগ কাঁধে পানি ঠেলে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় নোংরা পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। দিনের পর দিন পানি না সরে দুর্গন্ধ ছড়ায়, মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। ছোট শিক্ষার্থীদের কোমর পর্যন্ত পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে, রিকশাচালকেরা অনেকে এসব এলাকায় যেতে চাইছেন না।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, “বছরের পর বছর আমরা শুধু আশ্বাস শুনে আসছি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো ডুবে যায়।”
একই অভিযোগ মৌড়াইলের নাসিম, খৈয়াসারের জহির ও কালিবাড়ি মোড়ের সুভাষ পালেরও।

টানা বর্ষণে শহরের অনেক সড়কে নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ গর্ত দেখা দিয়েছে শহরের ব্যস্ততম মৌলভীপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের মতে, এখানে প্রতিদিন মোটরসাইকেল ও রিকশা আটকে যাচ্ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পশ্চিম পাইকপাড়া শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি মাড়িয়ে স্কুলে প্রবেশ করছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক বাসিন্দা ফেসবুকে লিখেছেন
“সারাদেশ বৃষ্টিতে ভাসছে শহর, দায় কার? ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা এক কথায় এই দুরবস্থার জন্য দায়ী। অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে রাস্তাঘাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক উঁচু বিল্ডিং। ফলাফল একটু বৃষ্টি হলেই শহর রূপ নেয় জলাবদ্ধতায় ভরা এক বধ্যভূমিতে। এই শহরের মানুষ কি এর জন্যই পৌর কর দিচ্ছে?”

আরেকজন দক্ষিণ মৌড়াইল (জাদুঘরের পেছনে) থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন—“পৌরসভার উন্নয়ন হলো না কেমনে? প্রত্যেকের ঘরের দোয়ার থেকে মাছ ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। এরপর আপনারা কি চান? ৫ তলা থেকে বসে মাছ ধরবেন? অকৃতজ্ঞ জাতি!”
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি রাস্তায় জমে থাকা পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক পুরনো হয়ে গেছে। অনেক স্থানে আবর্জনা ফেলায় ড্রেন কার্যকারিতা হারিয়েছে।”

পৌর প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, “ড্রেনেজ ও সড়কব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্পের আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদিত হলে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান সম্ভব। আপাতত আমরা মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, পৌর শহরের পুনিয়াউট-মৌড়াইল বাইপাস সংলগ্ন পানি সরানোর জন্য এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ড্রেনের লাইন তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করেন।

স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কার না হলে জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল অবস্থা পুরো শহরকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা জলাবদ্ধতায় ‘বধ্যভূমি’, গর্তে ভরা সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

টানা বৃষ্টিতে হাঁটুপানি রাস্তায়, ফেসবুকে ভাইরাল ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য; এক্সকেভেটর নিয়ে নেমেছে পৌরসভা

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিনের অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ এবং ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে পুনিয়াউট, সরকারপাড়া, কাউতলী, শিমরাইলকান্দি, ফিসারী রোড, মেড্ডা, কুরুলিয়া, কলেজপাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক ও টেংকেরপাড়সহ বহু এলাকায় হাঁটুর ওপর পানি জমে আছে। কেউ কাপড় গুটিয়ে, কেউ স্কুলব্যাগ কাঁধে পানি ঠেলে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় নোংরা পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। দিনের পর দিন পানি না সরে দুর্গন্ধ ছড়ায়, মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। ছোট শিক্ষার্থীদের কোমর পর্যন্ত পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে, রিকশাচালকেরা অনেকে এসব এলাকায় যেতে চাইছেন না।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, “বছরের পর বছর আমরা শুধু আশ্বাস শুনে আসছি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো ডুবে যায়।”
একই অভিযোগ মৌড়াইলের নাসিম, খৈয়াসারের জহির ও কালিবাড়ি মোড়ের সুভাষ পালেরও।

টানা বর্ষণে শহরের অনেক সড়কে নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ গর্ত দেখা দিয়েছে শহরের ব্যস্ততম মৌলভীপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের মতে, এখানে প্রতিদিন মোটরসাইকেল ও রিকশা আটকে যাচ্ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পশ্চিম পাইকপাড়া শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি মাড়িয়ে স্কুলে প্রবেশ করছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক বাসিন্দা ফেসবুকে লিখেছেন
“সারাদেশ বৃষ্টিতে ভাসছে শহর, দায় কার? ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা এক কথায় এই দুরবস্থার জন্য দায়ী। অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে রাস্তাঘাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক উঁচু বিল্ডিং। ফলাফল একটু বৃষ্টি হলেই শহর রূপ নেয় জলাবদ্ধতায় ভরা এক বধ্যভূমিতে। এই শহরের মানুষ কি এর জন্যই পৌর কর দিচ্ছে?”

আরেকজন দক্ষিণ মৌড়াইল (জাদুঘরের পেছনে) থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন—“পৌরসভার উন্নয়ন হলো না কেমনে? প্রত্যেকের ঘরের দোয়ার থেকে মাছ ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। এরপর আপনারা কি চান? ৫ তলা থেকে বসে মাছ ধরবেন? অকৃতজ্ঞ জাতি!”
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি রাস্তায় জমে থাকা পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক পুরনো হয়ে গেছে। অনেক স্থানে আবর্জনা ফেলায় ড্রেন কার্যকারিতা হারিয়েছে।”

পৌর প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, “ড্রেনেজ ও সড়কব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্পের আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদিত হলে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান সম্ভব। আপাতত আমরা মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, পৌর শহরের পুনিয়াউট-মৌড়াইল বাইপাস সংলগ্ন পানি সরানোর জন্য এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ড্রেনের লাইন তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করেন।

স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কার না হলে জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল অবস্থা পুরো শহরকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলবে।