ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা

আপনারা শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কার করুন: ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল

ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানেই সকল সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ আছে। আপনারা শুধু একটি সংস্কার করুন, যা হচ্ছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কার। তখন বাংলাদেশের জনগণ যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দিবে এবং তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি এসে সকল সংস্কার করবে।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন।

এসময় ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, এই দেশে মভ কালচার সৃষ্টি হয়েছে, নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এই চাঁদাবাজির কারণে ছাত্রদের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সারাদেশে কমিটি বিলুপ্ত করেছে। অন্তবর্তীকালিন সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আগামী ফেব্রুয়ারীর মাঝে আপনারা নির্বাচন দিন। যদি নির্বাচিত সরকার না আসে তাহলে সবকিছু আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। দ্রব্যমূল্য-আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সব কিছু আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কারণ ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে আপনাদের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং এদেশে আরেকটি অরাজকতা করার পায়তারা করছে। একটি নির্বাচনের জন্যে যেটুকু সংস্কারের প্রয়োজন আপনারা সেটুকু করুন। বাকি সংস্কার যারাই জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে তারাই করবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ছিল না, এটি ছিল গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল। তিনি বলেন, এই দেশে ১/১১ একটি জরুরি অবস্থায় একটি সরকার হয়েছিল। সেই সরকারটি ছিল ভারতীয়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে ভারতীয় ষড়যন্ত্রে ১/১১ সংগঠিত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের হয়েছিল একটি কলুষিত নির্বাচন। তখন শেখ হাসিনা বলেছিল মঈন উদ্দিন -ফখরুদ্দিন সরকার ছিল আমাদের আন্দোলনের ফসল। তারপর এই সরকারকে জাতি মেনে নিয়েছিল দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার জন্যে। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসে বিডিআরের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং একে একে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করে। হাসিনা আমাদের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এদেশের সুশাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং বিচারের বাণী নীরবে নিবৃতে কেঁদেছে।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সুপ্রিম কোর্ট ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, জেলা ইসলামি ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন কাসেমী, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ এমদাদুল্লাহ সিরাজী, জেলা ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নিয়াজুল করিম ও শহীদ মীর মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রমুখ।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মুবারকউল্লাহ। শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ শহীদ পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনারা শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কার করুন: ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল

আপডেট সময় : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানেই সকল সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ আছে। আপনারা শুধু একটি সংস্কার করুন, যা হচ্ছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কার। তখন বাংলাদেশের জনগণ যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দিবে এবং তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি এসে সকল সংস্কার করবে।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন।

এসময় ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, এই দেশে মভ কালচার সৃষ্টি হয়েছে, নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এই চাঁদাবাজির কারণে ছাত্রদের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সারাদেশে কমিটি বিলুপ্ত করেছে। অন্তবর্তীকালিন সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আগামী ফেব্রুয়ারীর মাঝে আপনারা নির্বাচন দিন। যদি নির্বাচিত সরকার না আসে তাহলে সবকিছু আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। দ্রব্যমূল্য-আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সব কিছু আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কারণ ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে আপনাদের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং এদেশে আরেকটি অরাজকতা করার পায়তারা করছে। একটি নির্বাচনের জন্যে যেটুকু সংস্কারের প্রয়োজন আপনারা সেটুকু করুন। বাকি সংস্কার যারাই জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে তারাই করবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ছিল না, এটি ছিল গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল। তিনি বলেন, এই দেশে ১/১১ একটি জরুরি অবস্থায় একটি সরকার হয়েছিল। সেই সরকারটি ছিল ভারতীয়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে ভারতীয় ষড়যন্ত্রে ১/১১ সংগঠিত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের হয়েছিল একটি কলুষিত নির্বাচন। তখন শেখ হাসিনা বলেছিল মঈন উদ্দিন -ফখরুদ্দিন সরকার ছিল আমাদের আন্দোলনের ফসল। তারপর এই সরকারকে জাতি মেনে নিয়েছিল দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার জন্যে। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসে বিডিআরের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং একে একে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করে। হাসিনা আমাদের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এদেশের সুশাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং বিচারের বাণী নীরবে নিবৃতে কেঁদেছে।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সুপ্রিম কোর্ট ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, জেলা ইসলামি ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন কাসেমী, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ এমদাদুল্লাহ সিরাজী, জেলা ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নিয়াজুল করিম ও শহীদ মীর মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রমুখ।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মুবারকউল্লাহ। শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ শহীদ পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।