ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন পাবলিক লাইব্রেরিকে জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে — জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ মায়ের দল আওয়ামী লীগ, মেয়ের পথ বিএনপি।। মনোনয়ন ঘিরে কৌতূহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবের সমাপনী: আবৃত্তি, সঙ্গীত ও আলোচনা সভায় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন রেলওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহ আলম তিতাসে দেশের সর্বোচ্চ গভীর কূপ ‘তিতাস-৩১’ খনন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।