ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।