ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি সুজন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার মূল আসামিকে ২৭ জুলাই আটক করে পিবিআই।

গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ১৮ জুলাই রাতে ভিকটিমের বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তে নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে একটি চৌকস টিম। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজন মিয়াকে (৩৭) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৭ জুলাই গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন হত্যার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ জুলাই শাহিনুরের বাসায় যায়। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শাহিনুর অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর আত্মগোপনের জন্য প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর ড্রিমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় সুজন এবং হোটেলেও রাত কাটায়। পরে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসা এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গিয়ে অবস্থান নেয়, সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

৩০ জুলাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুজন মিয়া।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, শাহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।