ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি চালকদের কর্মবিরতি, মহাসড়কে অবরোধে জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময় : ০৪:১৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
- / ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিনা কারণে যানবাহন জব্দ এবং লাইসেন্স ইস্যুতে দুর্নীতির অভিযোগে দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিএনজি অটোরিকশা চালকরা।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে এই কর্মবিরতি রূপ নেয় সড়ক অবরোধে। জেলার নন্দনপুর এলাকায় শত শত চালক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়; অনেকে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগী বহনকারী স্বজনদের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অভিযোগ উঠেছে, ধর্মঘটের সুযোগে কিছু অসাধু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া।
এক যাত্রী মতিউর রহমান বলেন, কাউতলী থেকে আখাউড়া রোডে সাধারণত ৬০ টাকা লাগে, আজ দিতে হয়েছে ১৮০ টাকা। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই গুনেছি বেশি ভাড়া।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে সদর মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে সিএনজি চালকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. স্বপন মিয়া বলেন,
আমাদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে বারবার প্রশাসনের দ্বারে গেলেও কোনো সমাধান মেলেনি। বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মহাসড়কে অবস্থান প্রত্যাহার করানো হয়েছে। বিকেলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও—সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর—সিএনজি চালকদের এই কর্মবিরতির প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অধিকাংশ অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সিএনজি চালকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. আটক যানবাহন অবিলম্বে মুক্তি,
২. পারমিট অনুযায়ী চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
৩. ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধ।
সকালে রাধিকা, রামরাইল, সুলতানপুর, কলেজ মোড় ও বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মঘটের কোনো পূর্বঘোষণা ছিল না। ফলে প্রস্তুতির অভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। অফিস, ক্লাস এমনকি রোগী নিয়েও ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছি না এটা একেবারেই অমানবিক।
উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। জনগণের দুর্ভোগ কমানোই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
সংবাদটি শেয়ার করুন




























