গ্যাস সংকটে বন্ধ সার কারখানা চালুর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্দন ও বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস–সংকটে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্দন করেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ মঙ্গলবার(৩১ আগস্ট) সকালে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্বরের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানায় দিনে অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। এ জন্য প্রতিদিন অন্তত ৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ না করায় সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৪ গ্যাস সরবরাহ শুরু করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এরপর ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ সার উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু ৩৮ দিন পর চলতি বছরের ১ মার্চ ২০২৫ থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আবার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সকালে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা কারখানার সামনে জড়ো হন। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা অফিসার ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশে কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আখতার হোসেন, নোয়াব আলী মুন্সী, এনামুল হক প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখতে পারলেই সরকার লাভ হবে। কিন্তু একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন–বাণিজ্য করতে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে কারখানাটি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার উৎপাদন চালু না করলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বক্তরা আরো বলেন, আশুগঞ্জ স্যার কারখানা ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরবর্তী সময়ে এটি জাতীয়করণ করা হয়। বিগত সরকার গ্যাস সংকটের কারনে ২০১২ সাল হতে উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে সরকার সার আমদানি নির্ভর হয়ে যায়।
আমরা হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন আপনার বাবার গড়ে তুলা প্রতিষ্ঠানটি পুনঃরায় চালু করুন এবং সার আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন করে আরেকটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করার আহবান জানান।
পরে সমাবেশ শেষে আশুগঞ্জ মহাসড়কের গোল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন














