ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন পাবলিক লাইব্রেরিকে জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে — জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ মায়ের দল আওয়ামী লীগ, মেয়ের পথ বিএনপি।। মনোনয়ন ঘিরে কৌতূহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবের সমাপনী: আবৃত্তি, সঙ্গীত ও আলোচনা সভায় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন রেলওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহ আলম তিতাসে দেশের সর্বোচ্চ গভীর কূপ ‘তিতাস-৩১’ খনন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা প্রবর্তক একাডেমি ও ঢেউ আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা যেমন খুশি তেমন সাজে লোকজ পুরস্কার

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা।

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৯৭ বার পড়া হয়েছে

ফটো সংগৃহিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রী হয়রানিসহ অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টার ও আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলে রাব্বি এবং আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগ এনে আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গত ৪ আগস্ট আরটিভি অনলাইন এবং ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য, যাত্রী হয়রানিসহ নানা অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কে ঘুষ নেওয়া হয়। ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশনে ঘুষ আদায় করছে মর্মে সংবাদে দাবি করা হয়। এসব কর্মকান্ডে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন পুলিশের যোগসাজেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। তবে, মামলার বিবরণে এসব সংবাদকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ ফজলে রাব্বি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব থেকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি। এ মামলা হয়রানিমূলক এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সাংবাদিকের কাজ সত্য প্রকাশ করা। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। সঠিক তদন্ত হলে ইমিগ্রেশন পুলিশের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আখাউড়া থানার ওসি ছমিউদ্দিন তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রুজু করে প্রমাণ করেছেন তিনি নিরপেক্ষ নন। এটি সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমি অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি সাংবাদিকরা যেন নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

আখাউড়া সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, দুই সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমস্ত সাংবাদিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করলেই যদি সাংবাদিকের নামে মামলা হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিকরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদেরকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা হলে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন।

আখাউড়া থানার ওসি মোঃ ছমিউদ্দিন বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। চাঁদাবাজির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা।

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রী হয়রানিসহ অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টার ও আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলে রাব্বি এবং আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগ এনে আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গত ৪ আগস্ট আরটিভি অনলাইন এবং ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য, যাত্রী হয়রানিসহ নানা অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কে ঘুষ নেওয়া হয়। ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশনে ঘুষ আদায় করছে মর্মে সংবাদে দাবি করা হয়। এসব কর্মকান্ডে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন পুলিশের যোগসাজেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। তবে, মামলার বিবরণে এসব সংবাদকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ ফজলে রাব্বি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব থেকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি। এ মামলা হয়রানিমূলক এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সাংবাদিকের কাজ সত্য প্রকাশ করা। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। সঠিক তদন্ত হলে ইমিগ্রেশন পুলিশের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আখাউড়া থানার ওসি ছমিউদ্দিন তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রুজু করে প্রমাণ করেছেন তিনি নিরপেক্ষ নন। এটি সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমি অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি সাংবাদিকরা যেন নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

আখাউড়া সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, দুই সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমস্ত সাংবাদিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করলেই যদি সাংবাদিকের নামে মামলা হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিকরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদেরকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা হলে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন।

আখাউড়া থানার ওসি মোঃ ছমিউদ্দিন বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। চাঁদাবাজির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।