ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঞ্ছারামপুরে খাল খনন শেষে ২৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপি-এসপির কঠোর বার্তা বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শহরবাসী: পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা চরমে

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৪০০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মশার উপদ্রব দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নালা-নর্দমার পরিচ্ছন্নতা না থাকায় শহরজুড়ে মশার দাপট এখন চরমে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মশকনিধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মিত কীটনাশক ছিটানো তো দূরের কথা, কোথাও কোথাও বছরের পর বছর কোনো ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে না। পৌর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মশার উপদ্রব দেখা গেছে কাজীপাড়া, সরকারপাড়া, মধ্যপাড়া, মধ্যপাড়া দিঘীরপাড়, মৌলভীপাড়া, মেড্ডা, টেংকেরপাড়, কাউতলি, শেরপুর রোড, পুনিয়াউট, এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘরের ভেতরেও বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে চলাচলের সময় পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে বসার চেষ্টা করে।

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না মশার যন্ত্রণায়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভায় অভিযোগ করলেও, কোনো লাভ হয়না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবহেলার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, গত মাসে হাসপাতালটিতে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জমে থাকা পানিতে যেন মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শহরের নাগরিক সমাজ বলছেন, জনগণের করের টাকায় চলা পৌরসভার দায়িত্বহীনতা আর অবহেলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে নিয়মিত ও কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন,”মশা নিধনে ইতোমধ্যে আরো নতুন যন্ত্রপাতি ফগারমেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ক্রয় করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে মশার কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম শুরু করবে। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শহরবাসী: পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা চরমে

আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মশার উপদ্রব দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নালা-নর্দমার পরিচ্ছন্নতা না থাকায় শহরজুড়ে মশার দাপট এখন চরমে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মশকনিধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মিত কীটনাশক ছিটানো তো দূরের কথা, কোথাও কোথাও বছরের পর বছর কোনো ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে না। পৌর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মশার উপদ্রব দেখা গেছে কাজীপাড়া, সরকারপাড়া, মধ্যপাড়া, মধ্যপাড়া দিঘীরপাড়, মৌলভীপাড়া, মেড্ডা, টেংকেরপাড়, কাউতলি, শেরপুর রোড, পুনিয়াউট, এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘরের ভেতরেও বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে চলাচলের সময় পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে বসার চেষ্টা করে।

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না মশার যন্ত্রণায়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভায় অভিযোগ করলেও, কোনো লাভ হয়না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবহেলার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, গত মাসে হাসপাতালটিতে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জমে থাকা পানিতে যেন মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শহরের নাগরিক সমাজ বলছেন, জনগণের করের টাকায় চলা পৌরসভার দায়িত্বহীনতা আর অবহেলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে নিয়মিত ও কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন,”মশা নিধনে ইতোমধ্যে আরো নতুন যন্ত্রপাতি ফগারমেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ক্রয় করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে মশার কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম শুরু করবে। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”