ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন পাবলিক লাইব্রেরিকে জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে — জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ মায়ের দল আওয়ামী লীগ, মেয়ের পথ বিএনপি।। মনোনয়ন ঘিরে কৌতূহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবের সমাপনী: আবৃত্তি, সঙ্গীত ও আলোচনা সভায় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন রেলওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহ আলম তিতাসে দেশের সর্বোচ্চ গভীর কূপ ‘তিতাস-৩১’ খনন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শহরবাসী: পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা চরমে

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মশার উপদ্রব দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নালা-নর্দমার পরিচ্ছন্নতা না থাকায় শহরজুড়ে মশার দাপট এখন চরমে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মশকনিধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মিত কীটনাশক ছিটানো তো দূরের কথা, কোথাও কোথাও বছরের পর বছর কোনো ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে না। পৌর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মশার উপদ্রব দেখা গেছে কাজীপাড়া, সরকারপাড়া, মধ্যপাড়া, মধ্যপাড়া দিঘীরপাড়, মৌলভীপাড়া, মেড্ডা, টেংকেরপাড়, কাউতলি, শেরপুর রোড, পুনিয়াউট, এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘরের ভেতরেও বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে চলাচলের সময় পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে বসার চেষ্টা করে।

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না মশার যন্ত্রণায়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভায় অভিযোগ করলেও, কোনো লাভ হয়না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবহেলার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, গত মাসে হাসপাতালটিতে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জমে থাকা পানিতে যেন মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শহরের নাগরিক সমাজ বলছেন, জনগণের করের টাকায় চলা পৌরসভার দায়িত্বহীনতা আর অবহেলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে নিয়মিত ও কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন,”মশা নিধনে ইতোমধ্যে আরো নতুন যন্ত্রপাতি ফগারমেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ক্রয় করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে মশার কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম শুরু করবে। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শহরবাসী: পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা চরমে

আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মশার উপদ্রব দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নালা-নর্দমার পরিচ্ছন্নতা না থাকায় শহরজুড়ে মশার দাপট এখন চরমে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মশকনিধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মিত কীটনাশক ছিটানো তো দূরের কথা, কোথাও কোথাও বছরের পর বছর কোনো ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে না। পৌর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মশার উপদ্রব দেখা গেছে কাজীপাড়া, সরকারপাড়া, মধ্যপাড়া, মধ্যপাড়া দিঘীরপাড়, মৌলভীপাড়া, মেড্ডা, টেংকেরপাড়, কাউতলি, শেরপুর রোড, পুনিয়াউট, এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘরের ভেতরেও বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে চলাচলের সময় পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে বসার চেষ্টা করে।

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না মশার যন্ত্রণায়। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভায় অভিযোগ করলেও, কোনো লাভ হয়না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবহেলার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, গত মাসে হাসপাতালটিতে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জমে থাকা পানিতে যেন মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শহরের নাগরিক সমাজ বলছেন, জনগণের করের টাকায় চলা পৌরসভার দায়িত্বহীনতা আর অবহেলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে নিয়মিত ও কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন,”মশা নিধনে ইতোমধ্যে আরো নতুন যন্ত্রপাতি ফগারমেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ক্রয় করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে মশার কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম শুরু করবে। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”