ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত এই যানজটের বিস্তার ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান ফোরলেন প্রকল্পের কারণে সড়কটি অনেকটা সরু হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মোড় দুটির দুর্বল ব্যবস্থাপনাও যানজট বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ বিগত ছয় বছর ধরে চলমান। যদিও এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে, পুরো প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একটি সরু পাশ দিয়েই যান চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় সৃষ্ট বড় গর্তের কারণে ভারী যানবাহনগুলো ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় কোনো গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে যানজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব এলাকায় যানবাহনের গতি কমে গিয়ে ঘণ্টায় মাত্র ১ থেকে ৫ কিলোমিটার হয়েছে।

এছাড়াও, আশুগঞ্জ থেকে ভৈরব সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। সেতুর ওপর বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী রাতভর যানবাহনের ভেতরেই আটকে ছিলেন।

ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা জানান, রাস্তার খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক যাত্রাপথে কয়েকগুণ সময় লাগছে। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। গর্তের ধাক্কায় যানবাহনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রহমান বলেন, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে তিন ফুটেরও বেশি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব জায়গায় যানবাহন ৭০ কিলোমিটার গতির পরিবর্তে মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। একটি ট্রাক এসব মোড় অতিক্রম করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। ফলে যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত এই যানজটের বিস্তার ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান ফোরলেন প্রকল্পের কারণে সড়কটি অনেকটা সরু হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মোড় দুটির দুর্বল ব্যবস্থাপনাও যানজট বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ বিগত ছয় বছর ধরে চলমান। যদিও এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে, পুরো প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একটি সরু পাশ দিয়েই যান চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় সৃষ্ট বড় গর্তের কারণে ভারী যানবাহনগুলো ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় কোনো গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে যানজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব এলাকায় যানবাহনের গতি কমে গিয়ে ঘণ্টায় মাত্র ১ থেকে ৫ কিলোমিটার হয়েছে।

এছাড়াও, আশুগঞ্জ থেকে ভৈরব সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। সেতুর ওপর বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী রাতভর যানবাহনের ভেতরেই আটকে ছিলেন।

ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা জানান, রাস্তার খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক যাত্রাপথে কয়েকগুণ সময় লাগছে। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। গর্তের ধাক্কায় যানবাহনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রহমান বলেন, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে তিন ফুটেরও বেশি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব জায়গায় যানবাহন ৭০ কিলোমিটার গতির পরিবর্তে মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। একটি ট্রাক এসব মোড় অতিক্রম করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। ফলে যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।