ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুলের বাড়িতে শোকের মাতম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৭০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত এই যানজটের বিস্তার ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান ফোরলেন প্রকল্পের কারণে সড়কটি অনেকটা সরু হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মোড় দুটির দুর্বল ব্যবস্থাপনাও যানজট বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ বিগত ছয় বছর ধরে চলমান। যদিও এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে, পুরো প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একটি সরু পাশ দিয়েই যান চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় সৃষ্ট বড় গর্তের কারণে ভারী যানবাহনগুলো ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় কোনো গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে যানজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব এলাকায় যানবাহনের গতি কমে গিয়ে ঘণ্টায় মাত্র ১ থেকে ৫ কিলোমিটার হয়েছে।

এছাড়াও, আশুগঞ্জ থেকে ভৈরব সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। সেতুর ওপর বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী রাতভর যানবাহনের ভেতরেই আটকে ছিলেন।

ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা জানান, রাস্তার খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক যাত্রাপথে কয়েকগুণ সময় লাগছে। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। গর্তের ধাক্কায় যানবাহনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রহমান বলেন, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে তিন ফুটেরও বেশি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব জায়গায় যানবাহন ৭০ কিলোমিটার গতির পরিবর্তে মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। একটি ট্রাক এসব মোড় অতিক্রম করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। ফলে যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত এই যানজটের বিস্তার ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান ফোরলেন প্রকল্পের কারণে সড়কটি অনেকটা সরু হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মোড় দুটির দুর্বল ব্যবস্থাপনাও যানজট বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ বিগত ছয় বছর ধরে চলমান। যদিও এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে, পুরো প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একটি সরু পাশ দিয়েই যান চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় সৃষ্ট বড় গর্তের কারণে ভারী যানবাহনগুলো ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় কোনো গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে যানজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব এলাকায় যানবাহনের গতি কমে গিয়ে ঘণ্টায় মাত্র ১ থেকে ৫ কিলোমিটার হয়েছে।

এছাড়াও, আশুগঞ্জ থেকে ভৈরব সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। সেতুর ওপর বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী রাতভর যানবাহনের ভেতরেই আটকে ছিলেন।

ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা জানান, রাস্তার খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক যাত্রাপথে কয়েকগুণ সময় লাগছে। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। গর্তের ধাক্কায় যানবাহনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রহমান বলেন, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে তিন ফুটেরও বেশি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব জায়গায় যানবাহন ৭০ কিলোমিটার গতির পরিবর্তে মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। একটি ট্রাক এসব মোড় অতিক্রম করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। ফলে যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।