ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন পাবলিক লাইব্রেরিকে জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে — জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ মায়ের দল আওয়ামী লীগ, মেয়ের পথ বিএনপি।। মনোনয়ন ঘিরে কৌতূহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবের সমাপনী: আবৃত্তি, সঙ্গীত ও আলোচনা সভায় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন রেলওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহ আলম তিতাসে দেশের সর্বোচ্চ গভীর কূপ ‘তিতাস-৩১’ খনন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

ময়না হত্যা মামলা: ইমাম ও মোয়াজ্জেম রিমান্ডে

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী মাইমুনা আক্তার ময়না হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সামিউল আলম শুনানি শেষে ইমাম হামিদুল ইসলামের তিন দিন এবং মোয়াজ্জেম সাইদুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই (শনিবার) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল মাদরাসাছাত্রী ময়না। পরদিন ৭ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে শাহবাজপুর গ্রামের একটি মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, “রিমান্ডে নিয়ে আমরা তথ্য উদ্ধারে কাজ করছি। তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে, আশা করছি খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য আমরা কাজ করছি, যাতে ময়নার পরিবার ন্যায়বিচার পায়।”

রিমান্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসলামী সংগঠন ‘শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতিকুল্লাহ বিন রফিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে সরাইল থানায় ও নিহত ময়নার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো নিরপরাধ ইমাম-মোয়াজ্জেমকে হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ডিএনএ ও ময়নাতদন্তে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কাউকে আটকে রাখা হবে না। কিন্তু এরপরও তাদের রিমান্ডে নেওয়া হলো—এটা স্পষ্ট নয়।”

তারা আরও বলেন, “মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে জিজ্ঞাসাবাদ যৌক্তিক। কিন্তু শুধুমাত্র তাদেরকেই কেন রিমান্ডে নেওয়া হলো—এ প্রশ্ন উঠছে। যারা ইতোমধ্যে আটক হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। আমরা চাই, প্রশাসন যেন তদন্তকে ঘোলাটে না করে।”

এদিকে বর্বর এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভীত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ময়না হত্যা মামলা: ইমাম ও মোয়াজ্জেম রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী মাইমুনা আক্তার ময়না হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সামিউল আলম শুনানি শেষে ইমাম হামিদুল ইসলামের তিন দিন এবং মোয়াজ্জেম সাইদুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই (শনিবার) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল মাদরাসাছাত্রী ময়না। পরদিন ৭ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে শাহবাজপুর গ্রামের একটি মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, “রিমান্ডে নিয়ে আমরা তথ্য উদ্ধারে কাজ করছি। তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে, আশা করছি খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য আমরা কাজ করছি, যাতে ময়নার পরিবার ন্যায়বিচার পায়।”

রিমান্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসলামী সংগঠন ‘শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতিকুল্লাহ বিন রফিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে সরাইল থানায় ও নিহত ময়নার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো নিরপরাধ ইমাম-মোয়াজ্জেমকে হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ডিএনএ ও ময়নাতদন্তে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কাউকে আটকে রাখা হবে না। কিন্তু এরপরও তাদের রিমান্ডে নেওয়া হলো—এটা স্পষ্ট নয়।”

তারা আরও বলেন, “মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে জিজ্ঞাসাবাদ যৌক্তিক। কিন্তু শুধুমাত্র তাদেরকেই কেন রিমান্ডে নেওয়া হলো—এ প্রশ্ন উঠছে। যারা ইতোমধ্যে আটক হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। আমরা চাই, প্রশাসন যেন তদন্তকে ঘোলাটে না করে।”

এদিকে বর্বর এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভীত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।