ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় পাপনের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
আশুগঞ্জ সার কারখানায় তুঘলকি কাণ্ড

৪ মাস ধরে বেতনহীন ৭৩ শ্রমিক, করছে মানবেতর জীবনযাপন

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৯৪ বার পড়া হয়েছে

আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)-এ চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। কর্তৃপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের পরিবার।

জানা গেছে, চাকুরী স্থায়ী করার দাবীতে শ্রম আদালতে মামলা করায় বিপাকে পড়েছে এই ৭৩ জন অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী। গত মার্চ মাস থেকে বেতন নেই তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায়কে অগ্রাহ্য করে তাদের সঙ্গে চরম অবিচার করা হচ্ছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা ঠিকাদারের কাছ থেকে বেতন গ্রহণ না করে স্থায়ী কর্মচারীর মর্যাদা দাবি করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানায় দৈনিক মজুরিভিত্তিতে ২৬৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিসিআইসির অনুমোদনক্রমে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ‘নোট’-এর মাধ্যমে। ফলে ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও তাদের চাকরি অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, শুরুতে তারা বেতন পেতেন ঠিকাদারের মাধ্যমে। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ২০২০ সাল থেকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ শুরু হয়।

তবে চাকরি দীর্ঘদিনেও স্থায়ী না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২২ সালে ৭৩ জন শ্রমিক আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটি আমলে নিয়ে শ্রম আদালত অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের চাকরির ওপর ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আদেশ দেন। এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আদালতের আদেশ স্থগিত এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের অনুমতির জন্য হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট শ্রমিকদের পক্ষে শ্রম আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান চাকরির শর্ত ও সুবিধা বহাল রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই আদেশ বোর্ড অব ডিরেক্টরসের কাছ থেকে গোপন রেখে কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ৫০৫তম সভায় কারখানা কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আউটসোর্সিং ঠিকাদার নিয়োগে দেওয়া কার্যাদেশের ১০.১ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। ঠিকাদার কেবল এই কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত কমিশন পাবেন।

দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত শ্রমিক আল আমিন বলেন, আমি ২০০২ সাল থেকে বিক্রয় বিভাগে কাজ করছি। একাধিকবার চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন করেও ফল পাইনি। তাই আদালতের দ্বারস্থ হই। সেই থেকেই আমার বেতন বন্ধ।

অন্য এক শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে উৎপাদন বিভাগে কাজ করছেন। এখনও তাঁর চাকরি স্থায়ী হয়নি। তাঁর দুই সন্তান এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবার নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি।

আরও কয়েকজন শ্রমিক বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকলেও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এই বয়সে নতুন কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব। বিষয়টি সমাধানে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে কারখানার প্রশাসন বিভাগের প্রধান ডিজিএম মো. তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকেরা আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে বেতন পেতেন। ২০২০ সাল থেকে তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা নিজেদের স্থায়ী শ্রমিক মনে করতে শুরু করেন এবং আদালতে মামলা করেন। এজন্য কর্তৃপক্ষ আগের প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার নাথ বলেন, এসব শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। ঠিকাদারের কাছে তাদের বেতনের চেক দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকেরা বেতন পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আশুগঞ্জ সার কারখানায় তুঘলকি কাণ্ড

৪ মাস ধরে বেতনহীন ৭৩ শ্রমিক, করছে মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)-এ চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। কর্তৃপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের পরিবার।

জানা গেছে, চাকুরী স্থায়ী করার দাবীতে শ্রম আদালতে মামলা করায় বিপাকে পড়েছে এই ৭৩ জন অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী। গত মার্চ মাস থেকে বেতন নেই তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায়কে অগ্রাহ্য করে তাদের সঙ্গে চরম অবিচার করা হচ্ছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা ঠিকাদারের কাছ থেকে বেতন গ্রহণ না করে স্থায়ী কর্মচারীর মর্যাদা দাবি করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানায় দৈনিক মজুরিভিত্তিতে ২৬৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিসিআইসির অনুমোদনক্রমে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ‘নোট’-এর মাধ্যমে। ফলে ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও তাদের চাকরি অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, শুরুতে তারা বেতন পেতেন ঠিকাদারের মাধ্যমে। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ২০২০ সাল থেকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ শুরু হয়।

তবে চাকরি দীর্ঘদিনেও স্থায়ী না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২২ সালে ৭৩ জন শ্রমিক আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটি আমলে নিয়ে শ্রম আদালত অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের চাকরির ওপর ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আদেশ দেন। এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আদালতের আদেশ স্থগিত এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের অনুমতির জন্য হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট শ্রমিকদের পক্ষে শ্রম আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান চাকরির শর্ত ও সুবিধা বহাল রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই আদেশ বোর্ড অব ডিরেক্টরসের কাছ থেকে গোপন রেখে কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ৫০৫তম সভায় কারখানা কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আউটসোর্সিং ঠিকাদার নিয়োগে দেওয়া কার্যাদেশের ১০.১ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। ঠিকাদার কেবল এই কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত কমিশন পাবেন।

দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত শ্রমিক আল আমিন বলেন, আমি ২০০২ সাল থেকে বিক্রয় বিভাগে কাজ করছি। একাধিকবার চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন করেও ফল পাইনি। তাই আদালতের দ্বারস্থ হই। সেই থেকেই আমার বেতন বন্ধ।

অন্য এক শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে উৎপাদন বিভাগে কাজ করছেন। এখনও তাঁর চাকরি স্থায়ী হয়নি। তাঁর দুই সন্তান এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবার নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি।

আরও কয়েকজন শ্রমিক বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকলেও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এই বয়সে নতুন কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব। বিষয়টি সমাধানে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে কারখানার প্রশাসন বিভাগের প্রধান ডিজিএম মো. তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকেরা আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে বেতন পেতেন। ২০২০ সাল থেকে তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা নিজেদের স্থায়ী শ্রমিক মনে করতে শুরু করেন এবং আদালতে মামলা করেন। এজন্য কর্তৃপক্ষ আগের প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার নাথ বলেন, এসব শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। ঠিকাদারের কাছে তাদের বেতনের চেক দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকেরা বেতন পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।