ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক পুলিশের ‘নগদে জরিমানা’: চালকদের সঙ্গে থানায় হয় গোপন ‘চুক্তি’!

আবু নাছের (রতন), আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / ৩৯৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে নগদে জরিমানা আদায়ের গোপন চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। চালকরা বলছেন, যানবাহন আটকানোর পর থানায় নিয়ে গিয়ে হয় ‘নগদ না ব্যাংক?’ প্রশ্ন, তারপর শুরু হয় গোপন লেনদেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জরিমানা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না কোনো রশিদ বা অফিসিয়াল স্লিপ।

সিএনজি চালক জাবেদ মিয়া জানান, “গাড়ি আটকানোর পর একটি কাগজ দিয়ে থানায় পাঠানো হয়। সেখানে ‘বড় স্যার’-এর কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে ভিতরে যেতে বলা হয়। ভেতরে ঢুকলেই বলা হয়, জরিমানা হয়েছে—নগদ না ব্যাংকে দিবেন? নগদ বললেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়, কিন্তু কোনো কাগজ দেয় না।”

চালক বকুল ও পলাশের অভিজ্ঞতাও একই। তারা বলেন, “থানায় নিলে ভিতরে নিয়ে গিয়ে বলে জরিমানা হয়েছে, নগদ দেন, গাড়ি নিয়ে যান। ভয়ে নগদ দিয়ে দেই, কোনো রশিদও পাই না।”

সিএনজি মালিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া বলেন, “থানায় নগদ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জরুরি প্রয়োজনে সিএনজি শহরে ঢুকতে পারে, কিন্তু স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণ অনিয়ম।”

এছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে ভারি যানবাহনও দিনে শহরে প্রবেশ করছে। নিয়ম অনুযায়ী রাত ৯টার পর এসব গাড়ি শহরে ঢোকার অনুমতি থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ দিয়ে দিনের বেলায়ই শহরে প্রবেশ করছে তারা। এর ফলে শহরে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব, আর শহরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মীর আনোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক পুলিশের ‘নগদে জরিমানা’: চালকদের সঙ্গে থানায় হয় গোপন ‘চুক্তি’!

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে নগদে জরিমানা আদায়ের গোপন চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। চালকরা বলছেন, যানবাহন আটকানোর পর থানায় নিয়ে গিয়ে হয় ‘নগদ না ব্যাংক?’ প্রশ্ন, তারপর শুরু হয় গোপন লেনদেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জরিমানা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না কোনো রশিদ বা অফিসিয়াল স্লিপ।

সিএনজি চালক জাবেদ মিয়া জানান, “গাড়ি আটকানোর পর একটি কাগজ দিয়ে থানায় পাঠানো হয়। সেখানে ‘বড় স্যার’-এর কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে ভিতরে যেতে বলা হয়। ভেতরে ঢুকলেই বলা হয়, জরিমানা হয়েছে—নগদ না ব্যাংকে দিবেন? নগদ বললেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়, কিন্তু কোনো কাগজ দেয় না।”

চালক বকুল ও পলাশের অভিজ্ঞতাও একই। তারা বলেন, “থানায় নিলে ভিতরে নিয়ে গিয়ে বলে জরিমানা হয়েছে, নগদ দেন, গাড়ি নিয়ে যান। ভয়ে নগদ দিয়ে দেই, কোনো রশিদও পাই না।”

সিএনজি মালিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া বলেন, “থানায় নগদ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জরুরি প্রয়োজনে সিএনজি শহরে ঢুকতে পারে, কিন্তু স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণ অনিয়ম।”

এছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে ভারি যানবাহনও দিনে শহরে প্রবেশ করছে। নিয়ম অনুযায়ী রাত ৯টার পর এসব গাড়ি শহরে ঢোকার অনুমতি থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ দিয়ে দিনের বেলায়ই শহরে প্রবেশ করছে তারা। এর ফলে শহরে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব, আর শহরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মীর আনোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।