ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীর পেট থেকে অপসারণ করা হলো ১৫ কেজি টিউমার

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৩৭১ বার পড়া হয়েছে

পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা আর ফোলাভাব নিয়ে ১৪ বছর বয়সি কিশোরী ফাতেমা ভর্তি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। তখন কেউ ভাবতেও পারেনি যে তার ছোট পেটের ভেতরে ১৫ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির টিউমার রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা, কলেজপাড়ার একটি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী। ধীরে ধীরে শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পরীক্ষার পর ধরা পড়ে যে তার পেটে বিশালাকার টিউমার রয়েছে, যা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে শুরু হয় ফাতেমাকে নতুন জীবন উপহার দেওয়ার যুদ্ধ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, সফল অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. শরিফ মাসুমা ইসমত ও ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন এবং অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ ও ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।

সফল অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে গাইনি কনসালটেন্ট শরিফ মাসুমা ইসমত বলেন, ফাতেমার পেটের টিউমারটি ছিল বিরল ও বিপজ্জনক। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে। এখন সে সুস্থ রয়েছে।

এ ব্যাপারে সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন বলেন, অপারেশনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এত বড় টিউমার অপসারণ করতে হলে সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া টিমের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন। আল্লাহর রহমতে এবং আমাদের টিমওয়ার্কের কারণে আমরা সফল হয়েছি।

অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ যোগ করেন, অপারেশনের সময় ফাতেমার প্রাণ বাঁচানোই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো সময়টা আমরা সতর্ক ছিলাম যেন রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অপারেশন শেষে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।

অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ফাতেমার মুখেও ছিল হাসি। চিকিৎসকদের প্রতি তার পরিবার অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। ছলছল চোখে তারা বলেন, আল্লাহর পরে ডাক্তারদের হাতেই নতুন জীবন পেয়েছে আমাদের মেয়ে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর আলম বলেন, আমাদের হাসপাতালের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফাতেমার মতো রোগীদের বাঁচানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সার্জনরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং সফল হয়েছে। এমন কঠিন অস্ত্রোপচারে টিমওয়ার্কই সবচেয়ে বড় শক্তি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীর পেট থেকে অপসারণ করা হলো ১৫ কেজি টিউমার

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা আর ফোলাভাব নিয়ে ১৪ বছর বয়সি কিশোরী ফাতেমা ভর্তি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। তখন কেউ ভাবতেও পারেনি যে তার ছোট পেটের ভেতরে ১৫ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির টিউমার রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা, কলেজপাড়ার একটি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী। ধীরে ধীরে শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পরীক্ষার পর ধরা পড়ে যে তার পেটে বিশালাকার টিউমার রয়েছে, যা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে শুরু হয় ফাতেমাকে নতুন জীবন উপহার দেওয়ার যুদ্ধ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, সফল অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. শরিফ মাসুমা ইসমত ও ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন এবং অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ ও ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।

সফল অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে গাইনি কনসালটেন্ট শরিফ মাসুমা ইসমত বলেন, ফাতেমার পেটের টিউমারটি ছিল বিরল ও বিপজ্জনক। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে। এখন সে সুস্থ রয়েছে।

এ ব্যাপারে সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন বলেন, অপারেশনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এত বড় টিউমার অপসারণ করতে হলে সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া টিমের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন। আল্লাহর রহমতে এবং আমাদের টিমওয়ার্কের কারণে আমরা সফল হয়েছি।

অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ যোগ করেন, অপারেশনের সময় ফাতেমার প্রাণ বাঁচানোই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো সময়টা আমরা সতর্ক ছিলাম যেন রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অপারেশন শেষে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।

অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ফাতেমার মুখেও ছিল হাসি। চিকিৎসকদের প্রতি তার পরিবার অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। ছলছল চোখে তারা বলেন, আল্লাহর পরে ডাক্তারদের হাতেই নতুন জীবন পেয়েছে আমাদের মেয়ে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর আলম বলেন, আমাদের হাসপাতালের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফাতেমার মতো রোগীদের বাঁচানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সার্জনরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং সফল হয়েছে। এমন কঠিন অস্ত্রোপচারে টিমওয়ার্কই সবচেয়ে বড় শক্তি।