ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মডেল মসজিদ

উদ্বোধনের ১৬ মাস পর প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

উদ্বোধনের প্রায় ১৬ মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মডেল মসজিদটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হলো। আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা।

সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে একটি আক্ষেপ বিদ্যমান যে উদ্বোধনের পরও ১৬ মাস কেন তারা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারলো না। মডেল মসজিদের পাশে ছোট্ট একটি মসজিদে এতদিন তারা নামাজ আদায় করেছেন। তারা বলছেন, এটি মূলত কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তিদের কারণে হয়েছে, যারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মসজিদের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মসিজদটি উদ্বোধন করার পায়তারা করেন। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও, মসজিদের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেও এই দেরি হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তবে তাড়াহুড়ো করায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়ায় এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৩ সনে সারা দেশে একযুগে ৫০টি মসজিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। যার মধ্যে এই মসজিদটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় মডেল মসজিদটি পুর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত না হলেও মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম জানান, সামনে রমজান মাস চলে আসছে মডেল মসজিদের পাশে ছোট্ট একটি মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে খুব কষ্ট হয়। তাই মুসল্লিদের কথা চিন্তা করে আমি নিজ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম স্যারকে বিষয়টি অবগত করলে পরবর্তীতে স্যারের নির্দেশনায় এখানে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। চারতলা ভবনের দুই, তিন ও চার তলায় নামাজের স্থান রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের অফিস, পাঠাগার ও মিলনায়তন রয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় পুুরুষের নামাজ আদায় করার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। তৃতীয় তলার এক পাশে পুরুষ ও অন্যপাশে মহিলাদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মসজিদে মুসল্লিদের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হলো কিন্তু মিলনায়তন এবং পাঠাগার কবে চালু হবে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো বাকি আছে। তাছাড়া ভবনটি গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে পারবো।

উল্লেখ্য, সারাদেশে মডেল মসজিদ নির্মাণের এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে মসজিদের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য কেনাকাটায় এই দুর্নীতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এর সাথে যুক্ত ছিল। বর্তমানে, এই দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এটি একটি বড় দুর্নীতির অভিযোগ এবং এর ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আশা করা যায়, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মডেল মসজিদ

উদ্বোধনের ১৬ মাস পর প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা

আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

উদ্বোধনের প্রায় ১৬ মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মডেল মসজিদটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হলো। আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা।

সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে একটি আক্ষেপ বিদ্যমান যে উদ্বোধনের পরও ১৬ মাস কেন তারা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারলো না। মডেল মসজিদের পাশে ছোট্ট একটি মসজিদে এতদিন তারা নামাজ আদায় করেছেন। তারা বলছেন, এটি মূলত কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তিদের কারণে হয়েছে, যারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মসজিদের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মসিজদটি উদ্বোধন করার পায়তারা করেন। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও, মসজিদের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেও এই দেরি হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তবে তাড়াহুড়ো করায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়ায় এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৩ সনে সারা দেশে একযুগে ৫০টি মসজিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। যার মধ্যে এই মসজিদটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় মডেল মসজিদটি পুর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত না হলেও মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম জানান, সামনে রমজান মাস চলে আসছে মডেল মসজিদের পাশে ছোট্ট একটি মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে খুব কষ্ট হয়। তাই মুসল্লিদের কথা চিন্তা করে আমি নিজ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম স্যারকে বিষয়টি অবগত করলে পরবর্তীতে স্যারের নির্দেশনায় এখানে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। চারতলা ভবনের দুই, তিন ও চার তলায় নামাজের স্থান রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের অফিস, পাঠাগার ও মিলনায়তন রয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় পুুরুষের নামাজ আদায় করার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। তৃতীয় তলার এক পাশে পুরুষ ও অন্যপাশে মহিলাদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মসজিদে মুসল্লিদের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হলো কিন্তু মিলনায়তন এবং পাঠাগার কবে চালু হবে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো বাকি আছে। তাছাড়া ভবনটি গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে পারবো।

উল্লেখ্য, সারাদেশে মডেল মসজিদ নির্মাণের এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে মসজিদের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য কেনাকাটায় এই দুর্নীতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এর সাথে যুক্ত ছিল। বর্তমানে, এই দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এটি একটি বড় দুর্নীতির অভিযোগ এবং এর ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আশা করা যায়, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।