ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক
বাঞ্ছারামপুরের মৎস্য সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে দূর্বৃত্তরা

মাছ ধরার নতুন ভয়ংকর ফাঁদ -স্পটলাইট ফিশিং”

ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে
বর্ষা শেষ, পানি কমতে শুরু করেছে। এ সময় নদী, হাওর ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে জেলেরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। তবে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্পটলাইট ফিশিং নামে নতুন এক ভয়ংকর পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
চায়নার তৈরি স্পটলাইট দিয়ে ছোট পোনা থেকে বড় মাছ—সব ধরা পড়ছে। শক্তিশালী আলো এবং বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করে মাছকে সংজ্ঞাহীন বা অচেতন করে সহজেই শিকার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে, মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছের উৎপাদন কমছে।
বাঞ্ছারামপুরের চরশিবপুর, পাঠামারা, নিলখীসহ বিভিন্ন গ্রামে অবৈধভাবে এই পদ্ধতিতে মাছ ধরা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, একেকটি স্পটলাইট মেশিনের দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এসব মেশিন ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে।
এক মৎস্যজীবী জানান, এ স্পটলাইট ১০ ফুটের মধ্যে মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, এমনকি অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ১০-১৫ বছর আগেও চাঁই, পলো, বরশির মতো দেশীয় উপায়ে মাছ ধরা হতো, যা পরিবেশবান্ধব ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্পটলাইট ও কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মমতাজ জিন্নাত সাগর বলেন, “মানুষের সচেতনতার অভাব এবং অবৈধ মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। এখন ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদা ইসলাম বলেন, “স্পটলাইট ইলেকট্রনিক ফিশিং জাল সম্পর্কে শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চায়না স্পটলাইট ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের মাছ শিকার জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করবে। তাই প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, জনসচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
উল্লেখ্য, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামে গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারী) মঙ্গলবার সরেজমিনে  রাতে স্পট লাইটের মাছ ধরার ছবি তুলতে গেলে কতিপয় যুবক ছবি তুলতে বাঁধা প্রদান করায় এ প্রতিনিধি ছবি না তুলেই ফিরে আসতে হয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরের মৎস্য সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে দূর্বৃত্তরা

মাছ ধরার নতুন ভয়ংকর ফাঁদ -স্পটলাইট ফিশিং”

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
বর্ষা শেষ, পানি কমতে শুরু করেছে। এ সময় নদী, হাওর ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে জেলেরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। তবে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্পটলাইট ফিশিং নামে নতুন এক ভয়ংকর পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
চায়নার তৈরি স্পটলাইট দিয়ে ছোট পোনা থেকে বড় মাছ—সব ধরা পড়ছে। শক্তিশালী আলো এবং বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করে মাছকে সংজ্ঞাহীন বা অচেতন করে সহজেই শিকার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে, মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছের উৎপাদন কমছে।
বাঞ্ছারামপুরের চরশিবপুর, পাঠামারা, নিলখীসহ বিভিন্ন গ্রামে অবৈধভাবে এই পদ্ধতিতে মাছ ধরা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, একেকটি স্পটলাইট মেশিনের দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এসব মেশিন ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে।
এক মৎস্যজীবী জানান, এ স্পটলাইট ১০ ফুটের মধ্যে মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, এমনকি অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ১০-১৫ বছর আগেও চাঁই, পলো, বরশির মতো দেশীয় উপায়ে মাছ ধরা হতো, যা পরিবেশবান্ধব ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্পটলাইট ও কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মমতাজ জিন্নাত সাগর বলেন, “মানুষের সচেতনতার অভাব এবং অবৈধ মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। এখন ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদা ইসলাম বলেন, “স্পটলাইট ইলেকট্রনিক ফিশিং জাল সম্পর্কে শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চায়না স্পটলাইট ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের মাছ শিকার জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করবে। তাই প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, জনসচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
উল্লেখ্য, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামে গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারী) মঙ্গলবার সরেজমিনে  রাতে স্পট লাইটের মাছ ধরার ছবি তুলতে গেলে কতিপয় যুবক ছবি তুলতে বাঁধা প্রদান করায় এ প্রতিনিধি ছবি না তুলেই ফিরে আসতে হয়।