ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় পাপনের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
তিতাস নদীতে  কচুরিপানার জট

দূষিত হচ্ছে পানি : ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন

ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৯৪ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদে কচুরিপানার জট পুরো তিতাস নদী ঘিরে ফেলায় নষ্ট হয়ে গেছে পানি। কোথাও কোথাও কচুরিপানার জট এতটাই চাপা যে, অনায়াসে এর উপর দিয়ে হেঁটে নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়া যায়। তার উপর জন্মেছে পরগাছা। পানি নষ্ট ও দূষিত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ সরকার প্রতি বছর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদীসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ফরদাবাদে এক সময়ে তিতাস নদীতে নৌযান চলাচল করতো। পাশাপাশি নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার করে কয়েক হাজার জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতো।
এ নদীর সুস্বাদু মাছের চাহিদা ছিল দেশের সর্বত্র। তিতাস নদীতে এক সময় দেশীয় প্রজাতির বিশেষ করে পাবদা, সরপুঁটি, বোয়াল, শিং, মাগুর, কই, শইল, ফইলা, চিতল মাছ প্রচুর পরিমাণে আহরিত হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হতো।
সম্প্রতি পুরো নদীটি কচুরিপানার ঝট লেগেছে। কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করার কারণে বন্ধ হয়ে যায় নৌপথ। একই সাথে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নদীর পানি নষ্ট হয়ে মাছ মরে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে হাজার জেলে পরিবার অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, তিতাস ও শাখা নদী ঢোলভাঙা  নদীতে উপজেলা জুড়ে শাখা প্রশাখা রয়েছে। প্রায় সব স্থানে কচুরিপানার ভয়াবহ জটে দূষিত পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হওয়ায় জেলেদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। কচুরিপানা সরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছে মাঝি ও জেলে পরিবারের সদস্যরা। তিতাস নদী দূষণমুক্ত রাখা, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অব্যাহত রাখতে কচুরিপানা পরিষ্কার করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে মনে করেন মৎস্যজীবীরা।
উপজেলার গোকুলনগর ও ফরদাবাদ মোড় এলাকার জেলে স্বপন কৃষ্ণ দাস (৪৫), তপন দাস (৬০), হারাধন দাস (৪৮) আলমগীর (৪০) সহ বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার জেলে ও মৎস্য চাষী এ নদীতে মাছ শিকার করে এক সময় পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারনে মাছ শিকার করতে পারেন না তারা। এতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কচুরিপানা সরালে পূর্বের ন্যায় আবারো তারা মাছ শিকার করতে পারবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদা ইসলাম বলেন, এ উপজেলাতে এক সময়ে মাছ উৎপাদনে অনেক সুনাম ছিল। কিন্তু এখন তিতাস নদ নদীতে কচুরিপানার কারনে এখন আর মাছ চাষ করা যায়না। মাছ চাষের উপযোগী করতে কচুরিপানা অপসারন করা প্রয়োজন। তিনি অনেকবার উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

তিতাস নদীতে  কচুরিপানার জট

দূষিত হচ্ছে পানি : ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন

আপডেট সময় : ০৪:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদে কচুরিপানার জট পুরো তিতাস নদী ঘিরে ফেলায় নষ্ট হয়ে গেছে পানি। কোথাও কোথাও কচুরিপানার জট এতটাই চাপা যে, অনায়াসে এর উপর দিয়ে হেঁটে নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়া যায়। তার উপর জন্মেছে পরগাছা। পানি নষ্ট ও দূষিত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ সরকার প্রতি বছর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদীসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ফরদাবাদে এক সময়ে তিতাস নদীতে নৌযান চলাচল করতো। পাশাপাশি নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার করে কয়েক হাজার জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতো।
এ নদীর সুস্বাদু মাছের চাহিদা ছিল দেশের সর্বত্র। তিতাস নদীতে এক সময় দেশীয় প্রজাতির বিশেষ করে পাবদা, সরপুঁটি, বোয়াল, শিং, মাগুর, কই, শইল, ফইলা, চিতল মাছ প্রচুর পরিমাণে আহরিত হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হতো।
সম্প্রতি পুরো নদীটি কচুরিপানার ঝট লেগেছে। কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করার কারণে বন্ধ হয়ে যায় নৌপথ। একই সাথে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নদীর পানি নষ্ট হয়ে মাছ মরে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে হাজার জেলে পরিবার অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, তিতাস ও শাখা নদী ঢোলভাঙা  নদীতে উপজেলা জুড়ে শাখা প্রশাখা রয়েছে। প্রায় সব স্থানে কচুরিপানার ভয়াবহ জটে দূষিত পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হওয়ায় জেলেদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। কচুরিপানা সরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছে মাঝি ও জেলে পরিবারের সদস্যরা। তিতাস নদী দূষণমুক্ত রাখা, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অব্যাহত রাখতে কচুরিপানা পরিষ্কার করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে মনে করেন মৎস্যজীবীরা।
উপজেলার গোকুলনগর ও ফরদাবাদ মোড় এলাকার জেলে স্বপন কৃষ্ণ দাস (৪৫), তপন দাস (৬০), হারাধন দাস (৪৮) আলমগীর (৪০) সহ বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার জেলে ও মৎস্য চাষী এ নদীতে মাছ শিকার করে এক সময় পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারনে মাছ শিকার করতে পারেন না তারা। এতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কচুরিপানা সরালে পূর্বের ন্যায় আবারো তারা মাছ শিকার করতে পারবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদা ইসলাম বলেন, এ উপজেলাতে এক সময়ে মাছ উৎপাদনে অনেক সুনাম ছিল। কিন্তু এখন তিতাস নদ নদীতে কচুরিপানার কারনে এখন আর মাছ চাষ করা যায়না। মাছ চাষের উপযোগী করতে কচুরিপানা অপসারন করা প্রয়োজন। তিনি অনেকবার উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।